মঙ্গলবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৮

সোমবার, ১৬ এপ্রিল ২০১৮

সাকিব কেন ম্যান অব দ্য ম্যাচ নন; আইপিএল ম্যাচের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন

এবিসিরিপোর্ট ডেস্ক

গত শনিবার দেশবাসীকে নববর্ষ উদযাপন সংক্ষিপ্ত করতে হয়েছিল সাঁঝের আগে নামা ঝড়-বৃষ্টির কারণে। যদিও সন্ধ্যার পর বাংলাদেশের ঘরে ঘরে বর্ষবরণ উত্সবকে আরেকবার রাঙিয়ে দিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের দ্যুতিতে ভাস্বর হয়েছিলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। কার্যকর বোলিংয়ে ২১ রানে দুই উইকেট নিয়েছিলেন। পরে খাদের কিনারে থাকা দলকে জয়ের সুবাস এনে দিয়েছিলেন ২৭ রানের মূল্যবান ইনিংস খেলে।

কিন্তু ম্যাচ শেষ হতেই সবার চক্ষু ছানাবড়া! ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার যে উঠল বিলি স্ট্যানলেকের হাতে! কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে হায়দরাবাদের পাঁচ উইকেটের জয়ে এ অস্ট্রেলিয়ানের অবদান চার ওভারে ২১ রানে দুই উইকেট। বোলিংয়ে একই পারফরম্যান্স ছিল সাকিবেরও।

কলকাতার পক্ষে ইনিংস সর্বোচ্চ ৪৯ রান করা ক্রিস লিন ও বিপজ্জনক সুনীল নারিনের (৯) উইকেট নিয়েছিলেন বাংলাদেশের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। আর স্ট্যানলেকের শিকার শচীন রানা (১৮) ও আন্দ্রে রাসেল (৯)।

 ১৩৯ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ৫৫ রানে তিন উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল হায়দরাবাদ। অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে জুটি বাঁধেন সাকিব। তাদের ৫৯ রানের জুটিই ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছে কলকাতাকে। ম্যাচ শেষ করে আসতে না পারলেও ২১ বলে সাকিবের ২৭ রানের ইনিংসেই কলকাতার বোলারদের চাপের বাঁধন উতরে যেতে পেরেছিল হায়দরাবাদ। ধারাভাষ্যকার থেকে সবাই যে ইনিংসের গুরুত্ব আলাদাভাবে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু অদ্ভূত কারণে বাংলাদেশি বাঁহাতি অলরাউন্ডার পেলেন না ম্যাচ সেরার পুরস্কার!

 সীমান্তের ওপারে চাকচিক্যের আয়োজন হলেও বরাবরের মতোই আইপিএলে ব্রাত্য বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। ম্যাচের সেরা পারফরমার হয়েও শনিবার রাতে সাকিবের ম্যাচ সেরার পুরস্কার না পাওয়াটা যেন উপরের কথাকেই সত্য প্রমাণ করে। কোটি-কোটি ডলারের টুর্নামেন্ট আইপিএলে এবার ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ ঘোষণায় সাকিবের প্রতি বৈরীতা স্পষ্ট।

 শনিবার রাতে ম্যাচ শেষ হতেই সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ফেসবুকে ঝড় উঠে। ক্রিকেটপ্রেমীদের একটাই প্রশ্ন ছিল, সাকিব কেন ম্যান অব দ্য ম্যাচ নয়? ভারতের গণমাধ্যম এবং কলকাতার বাংলা পত্রিকাগুলোতেও হায়দরাবাদের জয়ে সাকিবের পারফরম্যান্সের গুরুত্ব ফলাও করে ছাপা হয়েছে। ক্রিকেটের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফোর ম্যাচ রিপোর্টের শিরোনাম ছিল: ‘সাবেক নাইট রাইডার সাকিবের নেতৃত্বে কলকাতায় সানরাইজার্সের প্রথম জয়’।

 আনন্দবাজারের শিরোনাম ‘কেকেআরের কাঁটা প্রাক্তন তিন নাইট’। প্রতিবেদনে সাকিবের পারফরম্যান্স নিয়ে লেখা হয়েছে, ‘সাকিব আল হাসান চার ওভারে ২১ রান দিয়ে দুই উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতেও ম্যাচ জেতানো জুটি গড়লেন উইলিয়ামসনের সঙ্গে। আন্দ্রে রাসেলকে স্কয়ারকাটে পয়েন্টের উপর দিয়ে হেলায় ছক্কা মারলেন সাকিব। শটটা যেন চাবুকের মতো সেই সব কেকেআর কর্তার উপর আছড়ে পড়ল, যারা তাকে ঢাকার প্রতিবেশী শহর থেকে চলে যেতে দিয়েছেন হায়দরাবাদে।’

‘এই সময়’- পত্রিকার শিরোনাম ছিল আরও ঝাঁঝালো: ‘বাতিল বাঙালির নববর্ষের প্রতিশোধ’। কলকাতার আরেক পত্রিকা ‘এবেলা’ শিরোনাম করে, ‘বৃষ্টিবিঘ্নিত লড়াইয়ে নাইট শিবিরে ধাক্কা দিলেন সেই সাকিবরা’।

কলকাতার ইংরেজি দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ লিখেছে, ‘সাকিব শেষ পর্যন্ত হয়তো খেলে যেতে পারেনি, কিন্তু তার পারফরম্যান্স যা ছিল, প্রথমে বল হাতে তার পর ব্যাট হাতে খুবই প্রয়োজনীয় এক ইনিংস, এটা নিশ্চিত বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনটা দারুণভাবেই তিনি কাটাতে পারছেন।’

সাকিবের অলরাউন্ড নৈপুণ্যের এমন স্তুতি ছিল সর্বত্রই। যদিও তা আইপিএল কর্তাদের দীনতাকে মাটিচাপা দিতে পারেনি।