সোমবার, ১৬ জুলাই ২০১৮

শুক্রবার, ১৩ এপ্রিল ২০১৮

মোমিনের বর্ষবরণ জায়নামাজে

এবিসিরিপোর্ট ডেস্ক

১৪২৪ বঙ্গাব্দের শেষ দিন আজ। দুয়ারে কড়া নাড়ছে নতুন বছর। নতুন দিন। ১৪২৫ বঙ্গাব্দ। মোমিন হৃদয়ে বর্ষবিদায় মানেই হতাশার কালো মেঘ। মনজুড়ে হাহাকার, অনুশোচনার উত্তাল ঢেউ। পাওয়া না-পাওয়ার হিসাব-নিকাশ। আমলনামার খাতা খুলে কান্নায় ভেঙে পড়া। হাজারো ভুলের মাশুল দিতে সিজদায় লুটে পড়া। ভালো কাজের শুকরিয়া আদায় আর মন্দের ক্ষমা প্রার্থনা। আর বর্ষবরণ মানে অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামীর স্বপ্ন বোনার পরিকল্পনা করা। ভালো কিছু করার মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণ এবং প্রভুর প্রতিটি আদেশ যথাযথ পালনের তাগিদ অনুভব করা!

খোদাপ্রেমিক মানুষ তাই করেন। মোমিনের বর্ষবরণ হয় অন্ধকার রাতের জায়নামাজে। তারা খোদার দরবারে দোয়া-মোনাজাত করে নতুন বছরকে স্বাগত জানান। অনুশোচনার হৃদয়ে নতুন কিছু করার প্রত্যয় গ্রহণ করেন। ভালো কাজের সংকল্প আঁটেন।

পহেলা বৈশাখে আমাদের তরুণ সমাজ হিন্দুয়ানি ও বিজাতীয় সংস্কৃতিতে যেভাবে মেতে ওঠে, উৎসব পালনের নামে নারী-পুরুষের অবাধ বিচরণে পাপাচার যেভাবে সয়লাভ করেÑ এ থেকে বাঁচতে হবে আমাদের। আজকের দিনে ঠিক করতে হবে আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা। বিদায়ী বছরে কী কী ব্যর্থতা ছিল, নতুন বছরে এইসব ব্যর্থতা কীভাবে দূর করা যাবে, নতুন বছরে দেশ, জাতি ও মানুষের জন্য আমি কী করতে পারি, প্রতিটি মুহূর্ত আমি সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারছি কি নাÑ একজন দেশপ্রেমিক নাগরিক ও ধর্মপ্রাণ মানুষ হিসেবে সচেতন থাকতে হবে। ভালো চিন্তা ও আমলগুলো নিজে ও অন্যকে পালনে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

নববর্ষের এই দিনে পরিকল্পনার সঙ্গে ভালো কাজের খাঁটি নিয়তও করা চাই। কেননা, সঠিক পরিকল্পনা সফলতার পথ দেখায় আর খাঁটি নিয়ত কাজের গতি বৃদ্ধি করে। প্রতিটি কাজের ক্ষেত্রে নিয়তের গুরুত্ব দিয়েছেন রাসুল (সা.)। তিনি বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই প্রতিটি কাজ নিয়তের ওপর নিরর্ভশীল।’ (বোখারি : ১/১)। অন্য হাদিসে আছে, ‘মোমিন বান্দার নিয়ত তার কর্মের চেয়ে উত্তম।’ (বায়হাকি : ১/৮)।

ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীর সময় খুবই অল্প। দেখতে দেখতে চলে যায় সময়। এ অল্প সময়ের মধ্যেই প্রস্তুত করতে হবে অনেক কিছু। জোগান করেত হবে পরকালের পাথেয়। পৃথিবী হচ্ছে পরকালের শস্যক্ষেত। পরকালের ফসল ফলানোর জন্যই মহান প্রভু আমাদের পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। যেদিন পৃথিবীতে পরকালের ফসল ফলানো যাবে না, সেদিন পৃথিবীরও কোনো মূল্য থাকবে না। অতএব, দুদিনের দুনিয়ার চাকচিক্যের পেছনে না পড়ে, মনোযোগী হতে হবে পরকালের ফসল ফলানোর কাজে। দুনিয়ায় যা কিছু ফলাব, পরকালে তা-ই সম্বল হবে। অনন্তকালের সঙ্গী হবে।

বাংলা নববর্ষে আমাদের জীবন কল্যাণের প্রাচুর্যে ভরে উঠুক। শান্তিময় হয়ে উঠুক দেশ ও সমাজ। মহান আল্লাহর রহমতে পূর্ণ হোক আমাদের প্রতিটি মুহূর্ত। তিনিই সর্বত্র সহায়। আমরা তার কাছেই সব স্বপ্ন ও পরিকল্পনার শুভ পরিণতি কামনা করি। (সংগৃহিত)।