সোমবার, ১৬ জুলাই ২০১৮

শনিবার, ৭ এপ্রিল ২০১৮

বিসিবি চাইলে কোচের দায়িত্ব নিতেও আগ্রহী ওয়ালশ

এবিসিরিপোর্ট ডেস্ক

সর্বকালের সেরা বোলারদের একজন কোর্টনি ওয়ালশ। এখন বাংলাদেশ দলের ভারপ্রাপ্ত কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু এই পদের প্রতি তার সেই অর্থে লোভ নেই। গতকাল বলছিলেন যে, তাকে বললে তিনি এভাবে দায়িত্ব চালিয়ে যেতে রাজি আছেন। তবে তিনি চান যে, দ্রুত একজন প্রধান কোচ নিয়োগ দেওয়া হোক। সেই সাথে এটাও বলছেন যে, জাতীয় দলের দায়িত্বে সময়টা তার দারুণ কাটছে।

প্রধান কোচ সম্পর্কে ওয়ালশ বলছিলেন, ‘আমি জানি যে, একজন হেড কোচ খোঁজা হচ্ছে। আমাকে বললে, আমি খুশি মনেই কাজ চালিয়ে যাবো। তবে আমরা যত দ্রুত একজন প্রধান কোচ পাই, ততোই ভালো। আমার চিন্তা হলো, একজন লোক পাওয়া যার মাধ্যমে আমরা এই পরিকল্পনা অব্যাহত রাখতে পারবো। আশা করছি যে, এমন কাউকে পাবো, যার সাথে সবাই কাজ করে আনন্দ পাবে। আমার মূল ব্যাপার হলো, বাংলাদেশের সাফল্য কামনা করা।’

ভারপ্রাপ্ত কোচ হিসেবে ওয়ালশের বড় অভিযান ছিল শ্রীলঙ্কায় ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট। সেখানে অল্পের জন্য শিরোপা মিস করা টুর্নামেন্টকে বাংলাদেশের দারুণ অর্জন বলছেন তিনি- , ‘এটা অসাধারণ একটা টুর্নামেন্ট ছিল। ছেলেরা দারুণ ক্রিকেট খেলেছে। এর চেয়ে বেশি কিছু ওদের কাছে চাইতে পারতাম না। এটা ঠিক যে, ফাইনাল জিততে না পারায় আমরা হতাশ। তবে যা করেছি, সেটা অসাধারণ অর্জন ছিল। এরকম ম্যাচ রোজ রোজ হয় না। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। আপনারা দেখতে পেয়েছেন যে, ছেলেদের কাছে এটার কত গুরুত্ব ছিল। আমি ওদের কমিটমেন্ট দেখে খুশি।’

টুর্নামেন্টে অন্যতম আলোচিত ঘটনা ছিল, আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের তীব্র প্রতিবাদ। সেই ঘটনায় নিজের খেলোয়াড়দের দোষ দেখেন না ওয়ালশ, ‘এরকম ঘটনা হঠাত্ উত্তেজনা থেকে ঘটে থাকে। ওখানে আমাদের খেলোয়াড়দের কোনো দোষ ছিল না। আম্পায়ারের একটা ভুল ছিল। সম্ভবত দর্শকরা বুঝতে পারেনি যে, কী ঘটছে। আমরা ভেবেছি যে, নো-বলের জন্য আমরা একটা ফ্রি হিট পেতে যাচ্ছি। যা ঘটেছে, সেটা আমরা আশা করিনি। তবে এটা প্রমাণ করেছে যে, ছেলেরা খেলাটা নিয়ে কতটা আবেগী ছিল। কিন্তু খেলায় তো কিছু নিয়ম কানুন আছে; সেটার বাইরে যেতে চাই না আমরা।’

ওয়ালশ নিজে অবশ্য মাঠে চিরকালই ভদ্র ভাবমূর্তির জন্য পরিচিত ছিলেন। তাই বলছিলেন, ‘আমি সবসময়ই বলি, আমাদের নিয়ন্ত্রিত আগ্রাসন দেখাতে হবে। সেদিন ম্যাচের পরও এই কথা বলেছি। একটা ভুল করা হয়েছে মাঠে। এটাও ঠিক যে, আমরা যেভাবে পরিস্থিতিটা সামলাতে পারতাম, তা হয়নি।’

তবে ওয়ালশের মূল কাজ যে বোলিং দেখা, সেখানে খুব উন্নতি না হওয়ায় একটু হতাশ এই কোচ, ‘আমি আসলে ধারাবাহিকতা চাচ্ছি। বোলারদের ভেতর সম্ভাবনা আছে। সামনে বিসিএল আসছে। সেখানে বোলাররা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজেদের ধারাবাহিক করে তোলার আরেকটা সুযোগ পাবে।’

অন্য কারো না হলেও মুস্তাফিজের ব্যাপারে দারুণ উচ্ছ্বসিত ওয়ালশ, ‘আমি এই সুযোগটা খুব উপভোগ করছি। সবাই খুব পেশাদার। যা ঘটছে, তা তারা উপভোগ করছে। তারা অসাধারণ সম্মান দেখাচ্ছে। শুধু একটাই হতাশা যে, আমরা শ্রীলঙ্কা থেকে ট্রফিটা নিয়ে ফিরতে পারিনি। তবে আমি নিশ্চিত, ছেলেরা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।’

আইপিএল খেলার অপেক্ষায় থাকা মুস্তাফিজুর রহমানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘ও আরো উন্নতি করবে এবং আরও শক্তিশালী হবে। ওর ইনজুরির ধরন আর অপারেশনের ধরনটাই এমন ছিল যে, ওর সেরা ফর্মে ফিরতে সময় লাগছে। এই ধরনের ইনজুরি পুরোপুরি সেরে ওঠা দরকার। একজন ফিট ফিজ বিশ্বের সেরা বোলার। ও একটা দুর্লভ জিনিস।’