বুধবার, ২০ জুন ২০১৮

শুক্রবার, ৯ মার্চ ২০১৮

স্রষ্টার প্রতি ভরসার উপকারিতা

এবিসিরিপোর্ট ডেস্ক

মানুষ সব সময় লাভের আশাই রাখে। লোকসান মানতে সে নারাজ। পার্থিব জীবনের মোহে পড়ে সে ভুলেই যায় প্রতিটি লোকসানের মধ্যেও লুকিয়ে থাকতে পারে কোনো না কোনো মঙ্গল। এজন্য স্রষ্টার ওপর পূর্ণ ভরসাকারী মানুষ বিপদসংকুৃল পরিস্থিতিতেও অবিচলিতভাবে বলতে পারেন, ‘স্রষ্টা যা করেন মঙ্গলের জন্যই করেন। এক রাজা কোনো এক ঘটনায় আঙ্গুল হারিয়ে ফেললে আফসোসের সাথে ঘটনাটি তিনি তার উজিরের নিকট বর্ণনা করলেন। স্রষ্টার ওপর ভরসাকারী উজির বললেন, ‘স্রষ্টা যা করেন মঙ্গলের জন্যই করেন।’ এতে রাজা ক্রুদ্ধ হয়ে তাকে কারাগারে নিক্ষেপ করেন। কিছুদিন পর রাজা শিকারে গভীর বনে গেলে দুর্ভাগ্যক্রমে কিছু নরপিশাচের হাতে পড়েন- যাদের বলির জন্য একজন সর্বাঙ্গীন সুন্দর নর প্রয়োজন। বলির আগে রাজার অঙ্গ-প্রতঙ্গ পরীক্ষা করে দেখা গেল তার একটি আঙ্গুল কাটা। ফলে তিনি বলির অনুপযুক্ত হয়ে মুক্তি পেলেন এবং লাভ করলেন নতুন জীবন। ঠিক তখনই রাজা উজিরের কথার মর্ম উপলদ্ধি করলেন।

আজ আমাদের জীবনে দেখা দিচ্ছে অনেক জটিলতা। এই জীবনটা অনেক বেশি সহজ হয়ে যেত যদি আমরা স্রষ্টার ওপর ভরসা করতে পারতাম। পবিত্র কুরআন শরীফে বলা হয়েছে, ‘ যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।’ (সূরা তালাক, আয়াত-৩) আবার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, ‘ তোমরা একমাত্র আল্লাহর উপর ভরসা কর, যদি তোমরা মুমিন হও।’ (সূরা মায়িদাহ, আয়াত-২৩)  শুধু তাই নয়, ক্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় গ্রন্থ বাইবেলেও বলা হয়েছে একই কথা— “... অতএব, ইহা বলিয়া ভাবিত হইও না যে, ‘কী ভোজন করিব?’ বা ‘কী পান করিব?’ বা ‘কী পরিব?’ কেননা পরজাতীয়েরাই এই সকল বিষয় চেষ্টা করিয়া থাকে; তোমদের স্বর্গীয় পিতা তো জানেন যে, এই সকল দ্রব্যে তোমাদের প্রয়োজন আছে। কিন্তু তোমরা প্রথমে তাঁহার রাজ্য ও তাঁহার ধার্মিকতার বিষয়ে চেষ্টা কর, তাহা হইলে ঐ সকল দ্রব্যও তোমাদিগকে দেওয়া হইবে। অতএব, কল্যকার নিমিত্ত ভাবিত হইও না, কেননা কল্য আপনার বিষয় আপনি ভাবিত হইবে; দিনের কষ্ট দিনের জন্যই যথেষ্ট।” (মথি, ৬:২৫-৩৪)

স্রষ্টার ওপর ভরসা রাখা বলতে অনেকে এই অর্থ দাঁড় করায় যে, স্রষ্টা অলৌকিকভাবে সমস্ত চাহিদা পূরণ করে দেবেন। প্রকৃতপক্ষে এ দলের লোক বোকার স্বর্গে বাস করে। কেউ তাঁর ওপর ভরসা করে খাবারের আশায় হা করে বসে থাকবে, অমনি অলৌকিকভাবে তার মুখে খাবার এসে পড়বে-এমনটি ভাবার কেনো কারণ নেই। স্রষ্টা যদি এমনটি ঘটানোর ইচ্ছেই রাখতেন, তাহলে মানুষের মধ্যে কাজ করার ক্ষমতা বা তাকে চেষ্টা-তদবিরের নির্দেশ দিতেন না। স্রষ্টার দেওয়া প্রতিটি নিয়ামতের সুষ্ঠু ব্যবহার ও সুশৃঙ্খলভাবে তাঁর নির্দেশ পালনের পর যে ফল লাভ হয়, তা সন্তুষ্টিচিত্তে মেনে নেওয়াকেই প্রকৃত অর্থে স্রষ্টার ওপর ভরসা করা বলে। অবশ্য স্রষ্টার ওপর ভরসা না করলে তাঁর কিছুই আসে-যায় না। বরং এতে আমাদেরই ক্ষতি। আমরা চাই-চাই, হায়-হায় ও হা-পিত্যেশ করে মরব, নিজেদের অশান্তি আরো বাড়িয়ে তুলব। আমাদের উচিত উপকারী-উপলক্ষের উেসর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা। মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা এবং তাঁর সমস্ত ক্রিয়া-কলাপের ওপর ভরসা রাখা। আর তা হলেই অর্জন করা সম্ভব সুন্দর ও শান্তিময় জীবন, সংসার ও বিশ্বসমাজ। লেখিকা : ইয়াসমিন নূর, ইসলামি গবেষক ও গ্রন্থ রচয়িতা