বুধবার, ২০ জুন ২০১৮

রবিবার, ৪ মার্চ ২০১৮

এপ্রিলে মহাকাশে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট

এবিসিরিপোর্ট ডেস্ক

বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’এপ্রিলে মহাকাশে যাচ্ছে। নিউইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ জানিয়েছেন, এপ্রিলের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার স্পেস এক্স থেকে এটি উৎক্ষেপণ হবে।

এর মাধ্যমে নিজস্ব স্যাটেলাইটের অধিকারী বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসাবে বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ ঘটবে। এ ছাড়া এই স্যাটেলাইট স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশের যেমন নির্ভরতা কমবে অন্য দেশের ওপর, তেমনি দেশের অভ্যন্তরীণ টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে।

স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে ড. শাহজাহান মাহমুদ আরো জানান, স্পেস এক্স এর উৎক্ষেপণযান  বা রকেট ফ্যালকন-৯ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটকে মহাকাশে ১১৯ দশমিক ১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত অরবিট প্লটে স্থাপন করবে। এটি খুব শিগগির ফ্রান্স থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় কার্গো বিমানে উৎক্ষেপণ স্থান ফ্লোরিডার ক্যাপ ক্যানাভেরালে নিয়ে যাওয়া হবে। সমূদ্র জয়ের পর মহাকাশ বিজয়ের সোপানে এই গৌরবজনক উত্তরণ জাতির অগ্রগতির ইতিহাসে অন্যতম মাইলফলক ও স্মরণীয় ঘটনা হিসাবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিটিআরসি চেয়ারম্যান জানান, ফ্রান্সের কান টুলুজ ফ্যাসিলিটিতে এই বিশাল প্রকল্পের অন্যতম প্রধান অংশ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে নির্মাণের কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম খ্যাতনামা স্যাটেলাইট নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের থেলেস এলেনিয়া স্পেস বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটটি নির্মাণ করেছে। এটি তৈরির জন্য ২০১৫ সালের ১১ নভেম্বর বিটিআরসির সঙ্গে টার্ন কি পদ্ধতি কোম্পানিটির চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

তিনি জানান, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৯০২ কোটি টাকা। সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এক হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা এবং অবশিষ্ট এক হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা বিডার্স ফাইনান্সিং-এর মাধ্যমে ব্যয় সংকুলান হয়েছে।

ড. শাহজাহান মাহমুদ জানান, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ভূমি থেকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার জন্য গাজীপুর জেলার জয়দেবপুরে প্রাথমিক এবং রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র দ্বিতীয় গ্রাউন্ড স্টেশনের নির্মাণ কাজও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। মহাকাশে উৎক্ষেপণের পর এটি পরিচালনা, সফল ব্যবহার ও বাণিজ্যিক কার্যত্রম সম্পাদনের জন্য ইতিমধ্যে সরকারি মালিকানাধীন বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড নামে একটি কোম্পানি গঠন করা হয়েছে। নতুন এই কোম্পানিতে কারিগরী লোকবল নিয়োগ এবং তাদের প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল, ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, ভি-স্যাট সংস্থা বিদেশি স্যাটেলাইট ব্যবহার করছে। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এ খাতে ব্যয় করছে বছরে ১৪ মিলিয়ন ডলার। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট যাত্রা শুরু করলে এই বিপুল অর্থ দেশেই থেকে যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের ৪০টি ট্রান্সপন্ডার রয়েছে। এরমধ্যে ২০টি দেশে ব্যবহারের জন্য এবং ২০টি ভাড়া দিয়ে বৈদেশিক মূদ্রা আয় সম্ভব। এ ছাড়া নিজস্ব স্যাটেলাইট থাকায় বৈশ্বিক টেলিযোগাযোগের ক্ষেত্রে পরনির্ভরশীলতার অবসান হবে। টেলিমেডিসিন, ই-লার্নিং, ই-গবেষণা, ভিডিও কনফারেন্স, প্রতিরক্ষা ও দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় জরুরি যোগাযোগের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম. জিয়াউদ্দিন, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন, বিটিআরসির সচিব মো. সারওয়ার আলম, ম্যানেজিং পার্টনার শফিক এ. চৌধুরী এবং ওয়াশিংটনে বাংলাদেশে দূতাবাসের মিনিস্টার (প্রেস) শামীম আহমেদ।  সঞ্চালক ছিলেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. শামীম আহসান।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনের আগে একই স্থানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান বক্তা ছিলেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ। এ সময় তিনি বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট নিয়ে প্রবাসীদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন।  মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন রাষ্ট্রদূত এম. জিয়াউদ্দিন স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন, কনসাল জেনারেল মো. শামীম আহসান, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান প্রমুখ।