রবিবার, ১৯ আগস্ট ২০১৮

রবিবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

সাগর-রুনি হত্যার ছয় বছর; মামলার তদন্ত নিয়ে হতাশ স্বজন ও সহকর্মীরা

এবিসিরিপোর্ট ডেস্ক

হত্যাকাণ্ডের ছয় বছরেও আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তের কোন কিনারা করতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থা র্যাব। তারিখের পর তারিখ দিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন পেছানো হয়েছে ৫৪ বার। এভাবে কেবল তদন্তের নামে দীর্ঘ সময় ক্ষেপন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন সাংবাদিক নেতারা। কারা, কী উদ্দেশ্যে তাদের এমন নির্মমভাবে হত্যা করেছে তা আজও অজানা। আজ সাগর-রুনি হত্যার ছয় বছর। সাগর-রুনি হত্যার সুবিচার পাওয়া নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা বেড়েই চলেছে স্বজন ও সহকর্মী সাংবাদিকদের মাঝে। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ৫৮/এ/২, রশিদ লজ অ্যাপার্টমেন্টের ৫ম তলার ফ্ল্যাট মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারওয়ার ও এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন রুনির ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় রুনির ছোট ভাই নওশের আলম রোমান বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলাটির র্যাব তদন্ত করছে।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে। এটি একটি স্পর্শকাতর ও চাঞ্চল্যকর মামলা, ফলে তদন্ত কর্মকর্তা সেভাবেই গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।  

২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করে আদালতে একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, এই মামলায় ইতিমধ্যে ১৫৮ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়া গেছে। যা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ২৭ জন ইলেকট্রিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। মামলার ঘটনাস্থল থেকে চুরি যাওয়া ল্যাপটপ উদ্ধারে বিটিআরসি ও ইন্টারনেট সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। আদালতও ল্যাপটপ উদ্ধারে বিটিআরসিকে সহায়তার নির্দেশ দেন।

সাগর-রুনি দম্পতির ফ্ল্যাট থেকে চুরি হওয়া ল্যাপটপ এখনও উদ্ধার করতে পারেনি র‌্যাব। সাগর-রুনির ফ্ল্যাট থেকে খোয়া যাওয়া দুইটি ল্যাপটপ এখন র‌্যাব সন্ধান করছে। তবে সাগর-রুনির পারিবারিক সূত্র জানায়, ঘটনার সময় ওই ফ্ল্যাট থেকে দুটি ল্যাপটপ খোয়া যায়।

এদিকে, তদন্তে কোনো অগ্রগতি না দেখে বিচারের আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছেন নিহতের স্বজনেরা। নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হলেও এখন পর্যন্ত র্যাবের পক্ষ থেকে তদন্তের কোন আশার বাণী তাদেরকে শোনানো হয়নি। তারা এই মামলার তদন্ত নিয়ে একেবারেই হতাশ।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ছয় বছরেও এই হত্যার তদন্ত ও বিচার না হওয়ায় নিহতের পরিবারসহ আমরা সাংবাদিকরা হতাশ। আমরা এই হত্যার তদন্ত দাবি করছি।