সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

রবিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০১৮

বিচারকে প্রভাবিত করে সন্ত্রাসীদের বাঁচাতেই কিডনি ফেলা হয়নি বলে মিথ্যাচার করছে একটি পক্ষ- পিতা আউয়াল

এবিসিরিপোর্ট ডেস্ক

সিদ্ধিরগঞ্জের আটি হাউজিং এলাকায় স্কুলে হামলার ঘটনায় স্কুলের সভাপতি আউয়ালের পুত্র কামরুজ্জামানের বাম পাশের কিডনি ড্যামেজ হয়ে যায়। ড্যামেজ হওয়া কিডনি সুস্থ্য করা সম্ভব না হওয়ায় চিকিৎসক কিডনিটি কেটে ফেলে দিতে বাধ্য হয়। ঢাকা স্কয়ার হাসপাতালে পুত্র কামরুজ্জামানের চিকিৎসা হয়েছে যা তদন্ত করেছে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এস আই রফিকুল ইসলাম। এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা (নং-১৭) হলে প্রতিপক্ষকে বাঁচাতে একটি মহল মিথ্যাচার করছে যে, কিডনি কেটে ফেলা হয়নি। আবার এও প্রচার করছে, কিডনি বাঁচাতে পারলেও প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজের ছেলের কিডনি কেটে ফেলে দিয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও অনলাইনে এ ধরনের সংবাদ দেখে হতবাক পিতা আব্দুল আউয়াল।

হামলার শিকার পিতা আউয়াল জানায়, মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার সন্তান। সন্তানকে নিয়ে কেউ মিথ্যাচার করে না। ছেলের জীবন বাচাঁতেই চিকিৎসক তার ড্যামেজ কিডনি কেটে ফেলে দিতে বাধ্য হয়েছে। একটি কিডনি নিয়ে ছেলেকে বেচেঁ থাকতে হবে। তার ভবিষ্যত চিন্তায় আমরা উদ্বিগ্ন। ছেলের মা অসুস্থ্য হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এসময় আউয়াল জানায়, তাকে বাঁচাতে গিয়েই তার পুত্র প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হয়েছে। প্রতিপক্ষের হামলায় ও এলোপাতাড়ি লাথি ও মারধরের ঘটনায় আমার ছেলের  বাম পাশের একটি কিডনি ড্যামেজ হয়ে যায়। তাকে দ্রুত ঢাকা স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসক তাকে বাঁচাতে দ্রুত তার কিডনি অপসারণ করার পরামর্শ দেয়। ছেলের জীবন বাঁচাতে শেষ পর্যন্ত তার ড্যামেজ কিডনি ফেলে দিতে বাধ্য হয় চিকিৎসক। একজন বাবার পক্ষে এটা যে কত কষ্টের এক মাত্র ওই বাবাই জানে। এটাকে পূজিঁকরে কেউ কেউ প্রতিপক্ষকে বাঁচাতে নানা ভাবে মিথ্যা রটাচ্ছে যার কোন ভিত্তি নেই। তিনি আরও জানান, ঘটনার পর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশও আমাদের সাথে একই আচরণ করে। পরে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নির্দেশে এসআই রফিকুল ইসলাম ঢাকা স্কয়ার হাসপাতালে গিয়ে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা মামলা গ্রহণ করে। এর স্বপক্ষে আউয়ালের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখিয়ে বলেন, এরপর আর কি কি প্রমাণ দিলে আমার কথা সত্য হবে। ছেলের কিডনি হামলার ঘটনায় ড্যামেজ হয়েছে, তারপর বাধ্য হয়ে চিকিৎসক কেটে ফেলে দিতে বাধ্য হয়েছে। এটাই সত্য। এসময় তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে সত্যকে জানতে ও সত্য প্রকাশ করতে অনুরোধ করেন। পাশাপাশি তিনি তার ছেলের সুস্থ্যতার জন্য সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন।

উল্লেখ্য,  সিদ্ধিরগঞ্জের আটি হাউজিং এলাকার ফজলুল হক মডেল স্কুলের শিক্ষকের কক্ষে বসা স্কুলের সভাপতি আউয়ালকে গত ৬ জানুয়ারী একটি পক্ষ তাকে স্কুলে আসতে নিষেধ করে। এর কারণ জানতে চাইলে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা তাকে মারধর করে। এ খবর পেয়ে আউয়ালের পরিবার ও তার লোকজন স্কুলে আসলে উভয় পক্ষের সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আউয়ালের ছেলে কামরুজ্জামান ও ছেলের স্ত্রী নিপাসহ ৬ জন আহত হয়। গুরুত্বর আহত অবস্থায় কামরুজ্জামানকে নারায়ণগঞ্জস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার অবস্থা আশংকাজন হলে তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপরও তার অবস্থা অবনতি হলে চিকিৎসক হামলার ঘটনায় আঘাতে তার একটি কিডনি মারাত্মক ড্যামেজ হয়েছে বলে পরিবারকে জানায়। এসময় চিকিৎসক পরিবারের সম্মতিতে তার ড্যামেজ হওয়া কিডনিটি কেটে ফেলে দিতে বাধ্য হয়। এ ঘটনার পর কামরুজ্জামানের পিতা আউয়াল হামলাকারীদের আসামী করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। ঘটনার দুই দিন পর সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা (১৭ নং) রুজু করা হয় যার ধারা ১৪৩ /৪৪৭ /৪৪৮/ ৩২৩/৩২৫/৩২৬/ ৩০৭/৩৭৯/৫০৬ দ:বি:।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ৬ জানুয়ারী সকাল ১১ টায় স্কুলের শিক্ষকের কক্ষে বসে থাকা সভাপতি আউয়ালকে চাঁন মিয়ার ছেলে কাউয়ুম, জামাল উদ্দিনের ছেলে নাসির উদ্দিন, মোহাম্মদ আলীর ছেলে জাকির ও আলমগীরসহ আরও ৫/৬ জনে এলোপাতারি মারধর করে আহত করে। এ খবর আউয়ালের ছেলে কামরুজ্জামান, তার স্ত্রী নিপাসহ স্বজনা জানতে পরে তারাও ঘটনাস্থলে পৌছে। এসময় উল্লেখিত আসামীরা আউয়ালের ছেলে কামরুজ্জামানসহ সকলকে মারধর করে। কামরুজ্জামানকে এলোপাতারি ভাবে পিটিয়ে ও লাথি মেরে মারাত্মক আহত করে। মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, আসামীরা মারপিট করে তার কাছে থাকা অর্ধলক্ষ টাকাও ছিনিয়ে নিয়ে যায়। 

গত ৮ জানুয়ারী মামলা হলেও পুলিশ রহস্যজনক কারণে গতকাল রোববার পর্যন্ত একজন আসামীকেও গ্রেফতার করেনি। আউয়াল জানায়, আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এলাকায়। ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আরিফুল হক হাসান ও তার সহযোগীরা (মামলার আসামী) তাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। হুমকি দিচ্ছে বাড়িঘর লুটপাট করারও। তার ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে এবং আসামীদের গ্রেফতারে সহযোগিতা করতে জেলা প্রশাসক, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার,  মেয়র, সিআইডি, র‌্যাব, গোয়েন্দা পুলিশসহ সকল দপ্তরে লিখিত আবেদন করে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন মামলার বাদি আউয়াল। ছেলের উপর হামলাকারীরা গ্রেফতার না হওয়ায় ও হামলাকারীরা তাকে হত্যার হুমকি দেয়ায় তিনিসহ তার পরিবারের লোকজন নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।