মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭

বুধবার, ১৪ জুন ২০১৭

নার্সিংয়ে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে

এবিসিরিপোর্ট ডেস্ক

Share

প্রায়ই পত্রিকাতে বিভিন্ন হাসপাতাল, ক্লিনিকগুলোতে নার্স নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সম্প্রতি লোকবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল ঢাকা শিশু হাসপাতাল। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী হাসপাতালটি সিনিয়র স্টাফ নার্স পদে ৭৫ নারী জনবল নিয়োগ দিয়েছে। দেশে এখন প্রায় সব জেলা-উপজেলা শহরগুলোতেই সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিক গড়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রতিবছরই নার্সের প্রয়োজন হয়। সরকারি প্রতিষ্ঠানে নার্স নিয়োগ করে বাংলাদেশ সরকারের সেবা পরিদপ্তর। প্রতি বছরেই দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে কয়েক হাজার নার্স হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাই এ পেশায় যারা ক্যারিয়ার গড়তে চান, তারা এখন থেকে এর প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারেন। এ পেশা শুরুর আগে আপনাকে ডিপ্লোমা ইন নার্সিং অথবা ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন নার্সিং (বিএসসি) এসব কোর্স করতে হবে। বাংলাদেশ নার্সিং কাউন্সিলের তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে সরকারি ডিপ্লোমা ইন নার্সিং কলেজ আছে ৪৩টি। আর বেসরকারি কলেজ আছে প্রায় ৭০টি। এ ছাড়া সরকারি বিএসসি ইন নার্সিং কলেজ আছে ৯টি, বেসরকারি আছে ২১টি। এসব প্রতিষ্ঠান বছরের বিভিন্ন সময় ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।

কাজের পরিধি: একজন নার্সকে সাধারণত চিকিত্সকের নানা কাজের সহকারী হিসেবে হাসপাতাল বা ক্লিনিকের আউটডোর ও ইনডোর, অপারেশন থিয়েটারে কাজ করতে হয়। এ ছাড়া রোগীকে ওষুধ খেতে সহায়তা করাসহ নানাভাবে সেবা করারও কাজ করতে হয়। বাংলাদেশ নার্সিং কাউন্সিল থেকে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে তো বটেই, বিদেশেও নার্সিং পেশার দক্ষ ও অভিজ্ঞ লোকের চাহিদা রয়েছে ব্যাপক। বিশেষ করে মালয়েশিয়া, কাতার, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে। দক্ষতা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে নার্স থেকে সিনিয়র স্টাফ নার্স ও সুপারিনটেনডেন্ট, নার্সিং ট্রেনিং কলেজের প্রশিক্ষক হতে পারেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা : নার্সিং পেশায় আসতে চাইলে আবেদনকারীকে বাংলাদেশ নার্সিং কাউন্সিল কর্তৃক অনুমোদিত যেকোনো নার্সিং ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা ইন নার্সিং বা বিএসসি ইন নার্সিং কোর্স পাস করতে হবে। তাই এসব কোর্স করে নিতে পারেন। আর ডিপ্লোমা ইন নার্সিং কোর্সের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা যেকোনো বিভাগ থেকে ন্যূনতম এসএসসি পাস লাগবে। অন্যদিকে বিএসসি ইন নার্সিং কোর্সের জন্য বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জীববিদ্যাসহ এইচএসসি পাস হতে হয়। এ ক্ষেত্রে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় মোট জিপিএ-৬ পয়েন্ট থাকতে হবে। তবে কোনো পরীক্ষায় কমপক্ষে জিপিএ-২.৫০-এর কম থাকা যাবে না। আর বর্তমানে এই ডিপ্লোমা ইন নার্সিং কোর্সগুলো তিন বছরের ও বিএসসি কোর্সটি চার বছর মেয়াদী হয়ে থাকে। যেভাবে ভর্তি হওয়া যাবে: এসব কোর্স করানোর জন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বছরের বিভিন্ন সময়ে জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোতে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে থাকে। পরীক্ষার পদ্ধতি: ধাপে ধাপে কয়েকটি পরীক্ষা যেমন—লিখিত, মৌখিক ও ডাক্তারি পরীক্ষার মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে ভর্তির জন্য নির্বাচন করা হয়। লিখিত পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, জীববিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, সাধারণ জ্ঞান ইত্যাদি বিষয় থেকে প্রশ্ন করা হয়ে থাকে। এসব পেশায় মেয়েদের পাশাপাশি ১০ শতাংশ ছেলেদেরও ভর্তি হওয়ার সুযোগ থাকে।

কেমন খরচ লাগবে: সরকারি নার্সিং কলেজগুলো থেকে বিএসসি ইন নার্সিং কোর্স করতে চাইলে খরচ পড়বে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। আর বেসরকারি কলেজগুলোতে খরচ হবে চার বছরে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা। তবে বেসরকারি পর্যায়ের কলেজগুলোতে খরচ প্রতিষ্ঠান ভেদে কমবেশি হয়ে থাকে। আর সরকারি কলেজগুলোতে ডিপ্লোমা ইন নার্সিং করতে কোর্স ফি লাগে না। আবেদন যোগ্যতা: বিভিন্ন সময় যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিগুলো দেওয়া হয় তাতে যোগ্যতা হিসেবে চায়—নার্সিং সায়েন্স ও মিডওয়াইফারি বিষয়ে চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা, তিন বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা অথবা নার্সিং বিষয়ে চার বছর মেয়াদি বিএসসি পাস। প্রার্থীদের বাংলাদেশ নার্সিং কাউন্সিলে নিবন্ধিত হতে হয় অনেক সময়। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে নূ্যনতম এক বছরের অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়। (সংগৃহিত)