বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭

মঙ্গলবার, ১৬ মে ২০১৭

দুই তরুণী ধর্ষণ : সাফাতের গাড়িচালক ও দেহরক্ষী গ্রেফতার

এবিসিরিপোর্ট ডেস্ক

বনানীর ধর্ষণ মামলার আরেক আসামি সাফাত আহমেদের গাড়িচালক বিল্লাল দেহরক্ষী রহমত আলীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। সাফাতের সঙ্গে এই দুজনও ধর্ষণের ওই মামলার আসামি। সোমবার সন্ধ্যায় বিল্লালকে পুরনো ঢাকার নবাবপুর রোডের একটি হোটেল থেকে গ্রেফতার কথা জানান র্যাব-১০ এর প্রধান জাহাঙ্গীর আলম মাতুব্বর। অন্যদিকে রহমতকে গুলশান থেকে অস্ত্রসহ গ্রেফতারে কথা জানান ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়।

মামলার চার দিন পর সাফাতকে সিলেট থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার সঙ্গে গ্রেফতার হন আরেক আসামি সাদমান শাকিফ। সাদমান পিকাসো রেস্তোরাঁর অন্যতম মালিক ও রেগনাম গ্রুপের কর্ণধার মোহাম্মদ হোসেন জনির ছেলে। পাঁচ আসামির মধ্যে নাঈম আশরাফ বা হাসান মোহাম্মদ হালিম এখনও পলাতক। ধর্ষিতাদের একজন পাঁচজনকে আসামি করে বনানী থানায় মামলা করে। মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ২৮ মার্চ রাত ৯টা থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত আসামিরা মামলার বাদী এবং তার বান্ধবী, বন্ধু শাহরিয়ারকে আটক রাখেন। অস্ত্র দেখিয়ে ভয়-ভীতি প্রদর্শন ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। বাদী ও তার বান্ধবীকে জোর করে ঘরে নিয়ে যান আসামিরা। বাদীকে সাফাত আহমেদ একাধিকবার এবং বান্ধবীকে নাঈম আশরাফ একাধিকবার ধর্ষণ করেন। আসামি সাদমান সাকিবকে দুই বছর ধরে চেনেন মামলার বাদী। তার মাধ্যমেই ঘটনার ১০-১৫ দিন আগে সাফাতের সঙ্গে দুই ছাত্রীর পরিচয় হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার দিন সাফাতের জন্মদিনে দুই ছাত্রী যান। সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী (অজ্ঞাতপরিচয়) তাদের বনানীর ২৭ নম্বর রোডের দ্য রেইনট্রি হোটেলে নিয়ে যান। হোটেলে যাওয়ার আগে বাদী ও তার বান্ধবী জানতেন না সেখানে পার্টি হবে। তাদের বলা হয়েছিল, এটা একটা বড় অনুষ্ঠান, অনেক লোকজন থাকবে। অনুষ্ঠান হবে হোটেলের ছাদে। সেখানে যাওয়ার পর তারা ভদ্র কোনো লোককে দেখেননি। সেখানে আরো দুই তরুণী ছিলেন। বাদী ও বান্ধবী দেখেন সাফাত ও নাঈম ওই দুই তরুণীকে ছাদ থেকে নিচে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এই সময় বাদীর বন্ধু ও আরেক বান্ধবী ছাদে আসেন। পরিবেশ ভালো না লাগায় তারা চলে যেতে চান। এই সময় আসামিরা তাদের গাড়ির চাবি বন্ধু শাহরিয়ারের কাছ থেকে নিয়ে নেন। তাকে খুব মারধর করেন। ধর্ষণ করার সময় সাফাত গাড়িচালককে ভিডিওচিত্র ধারণ করতে বলেন। বাদীকে নাঈম আশরাফ মারধর করেন এবং তিনি প্রতিবাদ করবেন বলে জানিয়েছিলেন। এরপর বাদী ও বান্ধবীর বাসায় দেহরক্ষী পাঠানো হয় তথ্য সংগ্রহের জন্য। তারা এতে ভয় পেয়ে যান।