বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭

মুক্তিযুদ্ধ

আজ ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস

আজ ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস

আজ ১৭ এপ্রিল, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম তথা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। আজ থেকে ৪৬ বছর আগে ১৯৭১ সালের এই দিনে তত্কালীন কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করে। রচিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এর তিন সপ্তাহ পর বৈদ্যনাথতলা নামে পরিচিত ওই বিশাল আমবাগান এলাকাকেই পরে ‘মুজিবনগর’ নাম দিয়ে বাংলাদেশের অস্থায়ী রাজধানী ঘোষণা করা হয়েছিল। বাংলাদেশকে পাক হানাদার বাহিনীর দখলমুক্ত করতে মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্বেই পরিচালিত হয় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। মুজিবনগর সরকারের দক্ষ নেতৃত্ব ও পরিচালনায় নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের সফল পরিণতিতে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিশ্ব মানচিত্রে বাঙালির নিজস্ব আবাসভূমি স্বাধীন-সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।

নারায়ণগঞ্জে পাকিস্তান বাহিনীর ওপর প্রথম হামলা - মো. মোহর আলী

নারায়ণগঞ্জে পাকিস্তান বাহিনীর ওপর প্রথম হামলা - মো. মোহর আলী

একাত্তরের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার পর পাকিস্তান বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম জনপ্রতিরোধ এবং পরিকল্পিত সশস্ত্র হামলা হয়েছিল নারায়ণগঞ্জে ২৭ মার্চ দুপুরে। তবে ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তান বাহিনীর গণহত্যা শুরুর পর অস্ত্রধারী সরকার বাহিনী হিসেবে পিলখানায় ইপিআর এবং রাজারবাগে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা প্রথম পাকিস্তান বাহিনীকে প্রতিরোধ করেছিলেন। আর সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে বিভিন্ন উৎস থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে পরিকল্পিতভাবে পাকিস্তান বাহিনীর ওপর হামলা নারায়ণগঞ্জেই প্রথম হয়েছিল। সে হামলা হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার ৪০ ঘণ্টার মধ্যে। আমার জানা মতে, পিলখানায় ইপিআর এবং রাজারবাগে পুলিশ ব্যারাকে পাকিস্তান বাহিনী হামলা করলে ইপিআর ও পুলিশ সদস্যরা পাকিস্তান বাহিনীকে প্রতিরোধ করেছিলেন, নিজেরা উদ্যোগী হয়ে পাকিস্তান বাহিনীর ওপর হামলার সুযোগ পাননি। তারও আগে ১৯ মার্চ জয়দেবপুরে বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈন্যসহ স্থানীয় লোকজন পাকিস্তান বাহিনীকে প্রতিরোধ করেছিলেন। কিন্তু সেটা ছিল বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার আগেই।নারায়ণগঞ্জে পাকিস্তান বাহিনীর ওপর প্রথম হামলা এবং যুদ্ধে ছাত্র রাজনীতির একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে অংশগ্রহণ করার বিরল সুযোগ পেয়েছিলাম। পরবর্তীতে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করলেও হানাদার পাকিস্তান বাহিনীর ওপর প্রথম হামলা এবং প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশ নেয়া ছিল আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ ঘটনা। স্বাধীনতার ৪৬ বছরের মাথায় আজও সেই দিনের কথা মনে হলে আবেগে আপ্লুত হয়ে যাই।পাকিস্তান বাহিনী ২৫ মার্চ রাতে ঢাকায় প্রথম গণহত্যা শুরু করার কিছু সময়ের মধ্যেই বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।

মুক্তিযোদ্ধা গিয়াসউদ্দিনের স্মৃতিচারণ- ৭ মার্চ রেসকোর্সের সমাবেশে সবচেয়ে বড় মিছিল ছিল আদমজীর শ্রমিকদের

মুক্তিযোদ্ধা গিয়াসউদ্দিনের স্মৃতিচারণ- ৭ মার্চ রেসকোর্সের সমাবেশে সবচেয়ে বড় মিছিল ছিল আদমজীর শ্রমিকদের

মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন একাত্তরে ছিলেন কায়েদে আজম কলেজের (এখন সোহরাওয়ার্দী কলেজ) ছাত্র এবং সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। তবে গোদনাইল উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সময়ই ছাত্র রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয় তার। একাত্তরের উত্তাল মার্চে সব আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধেও বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করেছেন। যুদ্ধের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় অবদান রেখেছেন। এরপর দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান এবং বিএনপির টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়াও তিনি কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং নারায়ণগঞ্জে রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষা বিস্তারে নিরলসভাবে কাজ করছেন।

আজ সশস্ত্র বাহিনী দিবসআজ সশস্ত্র বাহিনী দিবস

আজ সশস্ত্র বাহিনী দিবসআজ সশস্ত্র বাহিনী দিবস

যথাযথ মর্যাদা ও উত্সাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আজ সোমবার সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদ্যাপিত হচ্ছে। দেশের সকল সেনানিবাস, নৌ ঘাঁটি ও স্থাপনা এবং বিমান বাহিনী ঘাঁটির মসজিদসমূহে দেশের কল্যাণ ও সমৃদ্ধি এবং সশস্ত্র বাহিনীর উত্তরোত্তর উন্নতি ও অগ্রগতি কামনা করে ফজরের নামাজ শেষে বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক বাণী প্রদান করেছেন। ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোত্সর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সোমবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরার নিজ নিজ বাহিনীর পক্ষ থেকে শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। তিন বাহিনী প্রধানগণ বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

এক নজরে মীর কাসেমের মামলা ও বিচার

এক নজরে মীর কাসেমের মামলা ও বিচার

একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ২০১২ সালের ১৭ জুন গ্রেফতারের পর ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে মীর কাসেমকে কারাগারে পাঠানো হয়। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন ২০১৩ সালের ১৬ মে মীর কাসেমের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। ওই বছরের ৫ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মীর কাসেমের যুদ্ধাপরাধের বিচার। এরপর মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে ট্রাইব্যুনাল-২ এ স্থানান্তর করা হয় এবং সেখানেই ওই ১৮ নভেম্বর সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ। ২০১৩ সালের ১১ ডিসেম্বর থেকে ২০১৪ সালের ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৪ জন। এরপর ২১ ও ২২ এপ্রিল মীর কাসেম আলীর পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন তার ছোট বোন মমতাজ নুরুদ্দিনসহ তিনজন। সাক্ষ্য-জেরা এবং দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে চলতি বছর ৪ মে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।

মুক্তিযোদ্ধা কারা তাই নিয়েই চলছে বিতর্ক

মুক্তিযোদ্ধা কারা তাই নিয়েই চলছে বিতর্ক

মুক্তিযোদ্ধার জাল সনদে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে ২৯ জন পুলিশ সদস্য গ্রেফতার হওয়ার পর মুক্তিযোদ্ধা ইস্যু নিয়ে আবার টানাহেঁচড়া শুরু হয়েছে। স্বাধীনতার ৪৩ বছর পর এখন কারা মুক্তিযোদ্ধা বস্তুত তাই নিয়েই চলছে বিতর্ক। সরকার গত বছর নতুন করে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা নির্ধারণ করতে গিয়েই এ বিতর্কে নতুন মাত্রা সৃষ্টি করে। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অন্তত পাঁচজন সচিব চাকরিকালে নিজেদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা না করা এবং পরে সনদ গ্রহণ করার প্রেক্ষাপটে ২০১৪ সালে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়। এ নিয়ে দুদক তদন্ত করে। তবে ওই সচিবেরা সনদ গ্রহণ করলেও সনদের কোনো সুবিধা না নেওয়ায় ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত হয়নি মর্মে দুদক তাদের অব্যাহতি দেয়। কিন্তু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় শৃঙ্খলাবিরোধী কাজের জন্য তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলে। এরই মাঝে এসব কর্মকর্তা চাকরি থেকে স্বেচ্ছা অবসর গ্রহণ করেন। ফলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। কারণ অবসরপ্রাপ্ত কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আইনি সুযোগ নেই। এদিকে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা ঠিক না করে তালিকা যাচাই-বাছাই করার বিরুদ্ধে খাদ্য বিভাগের এক কর্মকর্তার দায়ের করা রিটের শুনানি আজ বৃহস্পতিবার হওয়ার কথা রয়েছে। এ কথা জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. সলিমউল্ল¬াহ।

বঙ্গবন্ধু এনে দিয়েছেন সাড়ে সাত কোটি মানুষের স্বাধীনতা

বঙ্গবন্ধু এনে দিয়েছেন সাড়ে সাত কোটি মানুষের স্বাধীনতা

আমরা বলি, এই আগস্ট মাস শোকের মাস। ১৫ই আগস্ট ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অতর্কিত এবং অকস্মাত্ সেনাবাহিনীর কয়েকজন দুর্বৃত্ত সদস্য তাকে হত্যা করে। সেই সঙ্গে আরো কয়েকজন রাজনীতিবিদ এবং বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সব সদস্যকে, যাকে তারা সেদিন পেয়েছে, এমনকি আট বছরের শিশু বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ পুত্র রাসেলকে তারা নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছে। এরা যে কত ঘৃণ্য কাপুরুষ তা ইতিহাসে সংযুক্ত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে স্বাধীনতার শত্রুরা। এরা স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকেই পরাজিত পাকিস্তান হানাদার বাহিনী তাদের দোসর আলবদর, রাজাকাররা এবং সাম্রাজ্যবাদী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনসহ মিলিত হয়ে একটি নীল নকশার মাধ্যমে ইতিহাসের নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংগঠিত করেছে। তাঁকে হত্যা করা ছিল একটি সংঘবদ্ধ আক্রমণের অংশ। তারা শুধু শেখ মুুজিবুর রহমানকে হত্যা করেনি, সাড়ে সাত কোটি মানুষের স্বাধীনতা যা বঙ্গবন্ধু এনে দিয়েছেন।

'উদ্দেশ্যমূলকভাবে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে'

'উদ্দেশ্যমূলকভাবে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে'

খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেছেন, উদ্দেশ্যমূলকভাবে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি করা হচ্ছে, তাদের অপমান করা হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার সকালে কামরাঙ্গী চরে আলহেরা কমিউনিটি সেন্টারে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায়ী সংবর্ধনা প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি করা হচ্ছে। শহীদদের অপমান করা হচ্ছে। একাত্তরের বুদ্ধিজীবীদের বিরুদ্ধে ঊদ্ধত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখা হয়। এই কাজ গুলো করা হচ্ছে পরিকল্পিতভাবে। এ ধরণের বিতর্ক যারা তৈরি করছে তারা মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি। এ সময় তিনি শিক্ষক ও অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা আপনাদের সন্তানদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরুন। এই দায়িত্বটুকু আপনারা পালন করুন।

খালেদা জিয়ার বাড়ি ঘেরাওয়ে পুলিশের বাধা

খালেদা জিয়ার বাড়ি ঘেরাওয়ে পুলিশের বাধা

মুক্তিযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বাড়ি ঘেরাও কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছে আওয়ামী লীগ সমর্থক একটি সংগঠন। ‘মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড’ সংগঠনটির শতাধিক নেতা-কর্মী শনিবার সকালে খালেদার বাড়ি ঘেরাওয়ের উদ্দেশ্যে গুলশান ২ নম্বর চত্বরে জড়ো হয়ে লোকজন। পরে সেখান থেকে তাদের সরিয়ে দেয় পুলিশ। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুসারে শনিবার সকাল ৯টার দিকে গুলশান ২ নম্বর চত্বরে জড়ো হয় মেহেদী হাসান নেতৃত্বাধীন ‘মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড’ এর শতাধিক নেতা-কর্মী। উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বক্তব্যের পর বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে নানা কর্মসূচি পালন করছে সরকার সমর্থক সংগঠনগুলো।

আজ ২৫ মার্চ, ভয়াল কাল রাত

আজ ২৫ মার্চ, ভয়াল কাল রাত

ইতিহাসের নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞের ২৫শে মার্চের ভয়াল কাল রাত আজ। ইতিহাসের এই দিনে বাংলার বুকে নেমে আসে কালরাত্রি। পাশবিকতা, নৃশংসতা আর হিংস্রতার কালো থাবা। একাত্তরের এই রাতে স্বাধীনতাকামী বাঙালির ওপর বর্বর পাকিস্তানি বাহিনী হিংস্র হায়েনার মত ঝাঁপিয়ে পড়ে। পাকহানাদারবাহিনী পূর্বপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পূর্ণ সমর সজ্জায় রাত ১০টা অতিক্রম করার সাথে সাথে শুরু করে সারা দেশব্যাপী পৃথিবীর ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসলীলা। সামরিক ভাষায় ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে পরিচিত ছিল এই হত্যা-অভিযান। শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ এড়িয়ে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া বাঙালি হত্যার নীলনকশা বাস্তবায়নের পথে এগোলেন। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ দিবাগত রাতে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।

গৌরবের মুজিবনগর

গৌরবের মুজিবনগর

রবিবার ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। ১৯৭১ সালে বিভিন্ন জেলা পাক সেনাদের দখলে চলে যাওয়ায় সীমান্তবর্তী মেহেরপুরের বৈদ্যনাথ বাবুর আম্রকাননকেই মুজিবনগর সরকার গঠনের জন্য বেছে নেয়া হয়। সবার জানা, সেখানে গঠন করা হয় ‘স্বাধীন বাংলা অস্থায়ী বিপ্লবী সরকার’ মুজিবনগর সরকার। মেহেরপুরের অখ্যাত গ্রাম ভবেরপাড়া। ওই গ্রামেরই বৈদ্যনাথতলায় সাদামাটা পরিবেশে একটি আমবাগানে শপথ নিয়েছিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর সরকার। একাত্তরের ১৭ এপ্রিল শপথ নেয়া ওই সরকারের নেতৃত্বেই যুদ্ধ করে স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলার নামকরণ হয় মুজিবনগর। সে সরকারও পরিচিতি পায় মুজিবনগর সরকার নামে। সেদিনের সেই স্মৃতিকে ধরে রাখতে আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৯৮ সালে মুজিবনগরকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ৩০ একর জমির উপর শুরু করে মুজিবনগর কমপ্লেক্স স্থাপনের কাজ। তবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, নকশা তৈরিতে শম্বুকগতি ও আর্থিক সংকটসহ বিভিন্ন কারণে আজও শেষ হয়নি মুজিবনগরকে আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কাজ । ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পর দেশের বিভিন্ন জেলা একের পর এক পাক সেনাদের দখলে চলে যাওয়ায় সরকার গঠনের জন্য সীমান্তের নিকটবর্তী এ আম্রকাননকেই নিরাপদ স্থান হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছিল। কঠোর গোপনীয়তা অবলম্বন করা হয়েছিল। স্থানীয় বৈদ্যনাথ বাবুর সেই আমবাগানের নামকরণ করা হয় মুজিবনগর। মুজিবনগরকে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। মুজিবনগর সরকার আত্মপ্রকাশের পর পাকিস্তানি বাহিনী তত্কালীন কুষ্টিয়ার মেহেরপুর মহকুমা এলাকা দখল নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে। ২১ ও ২৩ এপ্রিল এবং পরে আরও কয়েকবার পাকিস্তানি বাহিনী সেখানকার ইপিআর ক্যাম্প দখলে নেয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে মুজিবনগর প্রশাসন মুক্তাঞ্চলে চলে যায়। পরে নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতের কলকাতা থেকে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করে প্রবাসী সরকার। এই প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার ছিল মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রতীক।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নির্বাসনে : রব

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নির্বাসনে : রব

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেছেন, রাষ্ট্র ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সরকার নির্বাসনে দিয়েছে। কিন্তু সরকার বোধহয় ভুলে গেছে জনগণের রাজনৈতিক অধিকার, কথা বলার অধিকার এবং স্বাধীনমত প্রকাশের অধিকার হরণ করে ক্রিত্রদাস রাষ্ট্র বানানোর জন্য মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়নি। বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইল ভাসানি হলে জেলা জেএসডি আয়োজিত ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। আ স ম রব বলেন, জনগণের রাজনৈতিক অধিকার অর্থাৎ জনগণের রাষ্ট্র, জনগণের সম্মতি ও সমর্থনে পরিচালিত হবে, এটাই ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মূল ভিত্তি। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে জনগণের রাজনৈতিক অধিকার, ভোটের অধিকার এবং মৌলিক মানবাধিকার হরণ করে জোরপূর্বক ক্ষমতা আকড়ে বসে আছে। আ স ম রব আরো বলেন, সাত কোটি বাঙ্গালির আত্মদান ও জনগণের সংগ্রামী অবদানেই আজকের এ বাংলাদেশ। আজকে আমরা কি দেখছি, যারা অধিকার আদায়ে প্রতিবাদ করছে, সংগ্রাম করছে, তাদের গ্রেফতার-নির্যাতন এবং মামলা হামলা করে ভয়-ভীতি দেখানো হচ্ছে। রাষ্ট্র পরিচালনা করতে গিয়ে জাতির নৈতিকতাকে চরমভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে। সার্কিট হাউজে থাকার অনুমতি না দেয়ায় জেলা প্রশাসক ও এনডিসিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জি হুজুর, ইয়েস স্যার এই শব্দগুলো ভুলে যান। মনে রাখবেন আপনারা জনগণের সেবক, জনগণের সেবা করার জন্যই আপনাদের ওখানে বসানো হয়েছে। জেলা জেএসডির সভাপতি মতিয়ার রহমান মতির সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় জেএসডির সহ-সভাপতি অ্যাড. এমএ রশিদ, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়া খন্দকার প্রমুখ।